টেস্টি স্যালাইন খাওয়া উপকারিতা, অপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম ও কোম্পানি

দৈনিক পানির চাহিদা পুরন করতে আমরা অনেকেই স্যালাইন খেয়ে থাকি। ডায়রিয়া হলেও অনেকে স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দেয়। মূলত দেহের যেকোনো ধরনের পানিশূন্যতা পূরণে খাওয়ার স্যালাইন একটি বিশ্বস্ত নাম।

বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন রকমের খাবার স্যালাইন পাওয়া যায় যেমন, টেস্টি স্যালাইন, ওরাল স্যালাইন বা ওর স্যালাইন, গ্লুকোজ স্যালাইন ইত্যাদি। এ সবই খাওয়ার স্যালাইন বা ওরাল স্যালাইন। এসব স্যালাইন খাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হল দেহের পানিশূন্যতা পূরণে সহায়তা করা। 

ওরাল স্যালাইন এর মধ্যে অন্যতম পরিচিত একটি স্যালাইন হল টেস্টি স্যালাইন। আজকের আর্টিকেলে আমরা টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করব। টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা, দাম, বিভিন্ন কোম্পানি সহ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করব।


Testi selain er upokarita


টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা

সারাদিন রোদে অতিরিক্ত পরিশ্রম করার পরে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও লবন নিঃসৃত হয়, দেহের সেই পানি ও লবনের ঘাটতি পূরণ করার ক্ষেত্রে টেস্টি স্যালাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

এছাড়া শরীরের যেকোনো ধরনের পানিশূন্যতা পূরণ করতে টেস্টি স্যালাইন বিশেষভাবে কার্যকারী। টেস্টি স্যালাইন এ রয়েছে গ্লুকোজ ও ড্রায়েড সুক্রোজ এর রাসায়নিক শরীরবৃত্তিয় উপাদান যা কোষকে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 


টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার অপকারিতা

আচ্ছা টেস্টি স্যালাইন খাওয়া উপকারিতা গুলো তো জানা হলো এবার টেস্টি স্যারের খাওয়ার ক্ষতিকর দিক থেকে সেগুলো দেখে নেওয়া যাক। টেস্টি স্যালাইন খাওয়া কি আমাদের জন্যে ক্ষতিকর? 

উত্তর হল না, টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার ফলে দেহের কোন ধরনের ক্ষতি সাধন হয় না। শুধুমাত্র উচ্চরক্তচাপ সম্পন্ন রোগীদের জন্যে টেস্টি স্যালাইন না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় থাকে। এর বাইরে টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। তবে সেলাইনটি কতটি মানসম্মত সেটির উপর আপনার ক্ষতি করা না না করার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে। 


টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার নিয়ম কি

টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার কোন বাধা নিয়ম নেই যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থাতে সকল ধরনের পানি শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে টেস্টি স্যালাইন খাওয়া যায়। তবে উচ্চ রক্তচাপ সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই স্যালাইন কম পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম।

টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার সময় একটি বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হবে যে, গরম পানিতে ঘুলে এই সেলাইন খাওয়া যাবে না। এই বাইরে আপনি পরিমাণমত পানিতে সেলাইন পাউডার ঘূলে এই সেলাইন খেতে পারেন।


টেস্টি স্যালাইন এর কোম্পানি

বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন কোম্পানির টেস্টি স্যালাইন তৈরি করছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সেল যে টেস্টি স্যালাইন টি বাজারে রপ্তানি করে সেটাই সর্বসাধারণের বিশ্বস্ত ও পরিচিত ছিল। 

চলমান সময়ে বাজারে এভেইলেবল কিছু টেস্টি স্যালাইন কোম্পানি হল, প্রমি টেস্টি স্যালাইন, ইকো টেস্টি স্যালাইন, একমি টেস্টি স্যালাইন ইত্যাদি।

দুঃখের বিষয় হলো এসব টেস্টি স্যালাইন কোম্পানির নামে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী, অবৈধভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের টেস্টি স্যালাইন তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। না আছে এদের ব্যাবসা করা লাইসেন্স না আছে এদের পণ্যের BSTI অনুমোদন। 

এর ফলে শিশু থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যার কারণে টেস্টি স্যালাইন এর ওপর থেকে মানুষের ভরসা হারিয়ে যাচ্ছে।


মূল কথা

টেস্টি স্যালাইন এর নামে বাজারে যতগুলো কোম্পানি এই স্যালাইন উৎপাদন এর সাথে জড়িত সকল কোম্পানির স্যালাইন বিশ্বাসের সাথে খাওয়া বোকামি। যেহেতু এদের মধ্যে অনেক ভেজাল রয়েছে তাই টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। 

এর বাইরে টেস্টি স্যালাইন খাওয়ার তেমন কোনো ক্ষতি নেই। শরীরের লবণ ও পানির চাহিদা পূরণ করার জন্যে এই স্যালাইন খাওয়া উপকারী হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। 




Next Post Previous Post