গর্ভবতী মায়ের আমল | গর্ভাবস্থায় আমল - গর্ভবতী মায়ের দোয়া ও আমল
গর্ভাবস্থা একটি নারীর জন্য পরীক্ষা। প্রতিটি নারী নেক সন্তান জন্মদানের লাভে গর্ভাবস্থায় উপনীত হন। মুসলিম নারীদের জন্য গর্ভাবস্থায় কোনো বিশেষ আমল ও দোয়া নিয়ে আজকের আলোচনা সাজানো। তাই আপনি যদি গর্ভাবস্থায় অবস্থান করছেন এবং এই অবস্থায় করণীয় দোয়া ও আমলগুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তাহলে আপনাকে এই আর্টিকেলটি পড়া অনুরোধ করছি।
গর্ভাবস্থায় আমল সম্পর্কে ইসলাম কি বলে
যেকোনো অবস্থাতেই বান্দার আমল করা আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। নেক আমল আল্লাহ তায়ালা কাছে সর্বদাই এবং সর্ব অবস্থায় গ্রহণযোগ্য। তাই গর্ভ অবস্থায় থাকার কারণ আপনি যেকোনো আমল করলে সেটি আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
তবে অনেকেই জানতে চান গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন নারীদের জন্য বা গর্ভবতী মায়েদের জন্য কোন নির্দিষ্ট আমল ও দোয়া রয়েছে কিনা? অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় আমল ও দোয়া সম্পর্কে ইসলাম কি বলে।
গর্ভবতী মায়ের দোয়া ও আমল
কুরআন ও হাদিসের আলোকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য কোন নির্দিষ্ট আমল ও দোয়ার কথা উল্লেখ নেই। অনেকেই আপনাকে বিভিন্ন জাল আমল ও দোয়া শিখে দিতে পারে। তবে কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে কোন দোয়া ও আমলের ব্যাপারে উল্লেখ নেই।
তবে ইসলাম এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু করণীয় ও বর্জনীয় কাজের মাধ্যমে গর্ভকালীন অবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ ও ইবাদতের সময় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। নিচে গর্ভকালীন সময়ে করণীয় ও বর্জনীয় বিভিন্ন কাজ ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হল।
গর্ভবতী মায়ের আমল
গর্ভাবস্থায় আপনি কি কি কাজ করছেন বা কতটুকু সময় ধরে ইবাদত করছেন এর প্রভাব পড়তে পারে আপনার সন্তানের ওপর। গর্ভকালীন সময়ে আপনি যদি নেক আমল এবং অশ্লীল ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেন তাহলে আপনি আল্লাহর কাছে নেককার সন্তান আশা করতে পারেন।
গর্ভাবস্থার আমলগুলো কি কি?
এবার গর্ভাবস্থায় কোন কোন আমল করবেন সেই প্রসঙ্গে আসা যাক। পূর্বেই বলেছি গর্ভাবস্থার জন্য নির্দিষ্ট কোন আমল কোরআন ও হাদিসে উল্লেখিত নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা যে আমলগুলো প্রতিনিয়ত করি সেই আমলগুলো বেশি বেশি করাই উত্তম।
কোরআন তেলোয়াত করা
গর্ভকালীন সময়ে সবচেয়ে উত্তম আমল হলো বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা। এটি যেহেতু একটি শারীরিক আমল না তাই, গর্ভকালীন সময়ে আপনি সহজেই কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারেন।
সময়মত নামাজ আদায় করা
চেষ্টা করবেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা। এটি বেশ গুরুত্বপূর্ন আমল এর অন্তর্ভুক্ত। তাই গর্ভাবস্থায় ওয়াক্তমত ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবেন।
বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়া
গর্ভবতী মায়েদের জন্যে বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি আমলের অন্তর্ভুক্ত। বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়ার কারণে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং নেককার সন্তান লাভের দোয়া কবুল হয়।
বেশি বেশি জিকির করা
বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণ করা বা জিকির করার মাধ্যমে বান্দা সর্বদা আল্লাহর রহমতের ছায়ায় থাকেন। তাই গর্ভাবস্থায় আল্লাহর নাম নিয়ে বেশি বেশি করবেন।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য যদি কোন নির্দিষ্ট আমল ও দোয়া থাকত তাহলে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয়ই তা আমাদের শিখিয়ে দিতেন।
সুতরাং নিয়মিত করা আমল ও দোয়া গুলোকেই আপনি গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি করার মাধ্যমে নেককার সন্তানের জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন।
